বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন । জানতে হবে আপনাকেও

বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঃ বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গত কয়েকটি বিসিএস যাচাই করে দেখা গেছে  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বেশি প্রশ্ন করা হচ্ছে যার কারনে বিজ্ঞানের  চাকরিপ্রার্থীরা পরীক্ষায় বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। তাই বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পদক্ষেপ নিচ্ছে পিএসসি। Major changes in BCS exam pattern

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি-একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন

৪৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি | প্রাথমিক পদক্ষেপ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় ৮ টি কার্যকরী টিপস

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায় ৭টি কার্যকরী টিপস

চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার উপায় ৭ টি কার্যকরি টিপস

আগামীতে যে সব  প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হবে, সেগুলোয় প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ‘ভারসাম্য’ বজায় রাখা হবে। চাকরিপ্রার্থী সকল গ্রুপের চাত্র।চাত্রীরা যেন সমান সুযোগ পায় সেই  জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা হবে। বিশেষ কোনো একটি বিভাগ থেকে পাস করা চাকরিপ্রার্থীরা বেশি সুবিধা যেন না পায় সেটা নিশ্চিত করতে  শিগগিরই পরিবর্তিত এ পদ্ধতি প্রয়োগ করবে পিএসসি।

প্রশ্নের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা

প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় বিজ্ঞানের নানা বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয় এতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে আসা প্রার্থীদের তুলনায় বেশি ভালো করে থাকে । ৪০তম বিসিএসের পর দেখা গেছে, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরাই ভালো ক্যাডার পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে। তাঁরা ১৫টি ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। শুধু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকেই প্রশাসন ক্যাডারে ৫০ জন চাকরি পেয়েছেন।

একচেটিয়া প্রভাব যেন না থাকে

তাই একচেটিয়া এবং এককভাবে  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা চাকরিপ্রার্থীরা যেন বেশি সুবিধা করতে না পারেন, সে জন্য পরীক্ষাপদ্ধতিতে ব্যাপক এবং বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে পিএসসি। এটি করার আগে একটি তদন্ত কমিটি হয়। তদন্ত কমিটি বলেছে, পরীক্ষায় মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করা চাকরিপ্রার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন। তাই এখন থেকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়টিগুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

মৌখিক পরীক্ষায়ও পরিবর্তন আসছে !

বর্তমান পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে নম্বর দেওয়ার বিধান আছে। এখানেই পরিবর্তনটা আসছে। প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। এখানে ২০০ নম্বর বরাদ্দ আছে। যাঁরা লিখিত পরীক্ষায় পাস করেন, তাঁরা এই পরীক্ষায় অংশ নেন।

মৌখিক পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীর জন্য বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর ভাগ করে দেওয়া থাকবে- এই চিন্তা ভাবনা নিয়ে এগুচ্ছে পিএসসির মৌখিক পরীক্ষা কমিটি। ভাগ গুলো হতে পারে নিম্ন রুপ-

  • সঠিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার হার কত,
  • পোশাক–পরিচ্ছদে কেমন,
  • মানসিক দক্ষতা কেমন,
  • আত্মবিশ্বাস কতটা,
  • সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কতটা—এসব বিষয়ে আলাদা আলাদা নম্বরের ঘর থাকবে।

মৌখিক পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষক আলাদা করে প্রার্থীকে নম্বর দেবেন। মৌখিক পরীক্ষাশেষে সবার নম্বর যোগ করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ করা হবে। আগের মতো ঢালাওভাবে নম্বর দেওয়া হবে না।

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় উল্লেখিত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে। বিসিএসকে আরও যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে  এবং সব পরীক্ষায় সবাই সমানভাবে সুযোগ পাক, সেটি নিশ্চিত করতেই এই প্রয়াস চালাচ্ছে পিএসসি।

বিসিএস প্রিলির কাট মার্কস নিয়ে পিএসসি র সিদ্ধান্ত

বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হওয়ার পর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়, তা হলো কাট মার্কস। প্রার্থীদের জানার আগ্রহ থাকে কত কাট মার্কস হলে প্রিলিমিনারিতে টেকা যাবে। ন্যূনতম কত পেলে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করবেন, সেটিকে কাট মার্কস হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ কিছু কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবার প্রতিটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগেই  কাট মার্কস নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগেই কাট মার্কস নির্ধারন করা

বিসিএসের শুরুর ধাপ হচ্ছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রার্থী অংশ নেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর কাট মার্কস নির্ধারণ করে প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়। যেহেতু এই কাট মার্কস বিষয়টি অনেক বেশি স্পর্শকাতর, তাই যেকোনো বিসিএস শুরুর আগেই কাট মার্কস নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। খুব শিগ্রই কাট মার্কস এর বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হবে। বিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় শৃংখলা ফিরিয়ে আনতেই মুলত বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এর সুচনা করেছে পিএসসি।

সুপারিশ বা তদবির বন্ধ

সুপারিশ বা তদবির বন্ধ করতেই পিএসসি কাট মার্কস আগে নির্ধারন করার সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।এ ছাড়া বিসিএস প্রিলিমিনারির আগে আরও কিছু বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে  যেমন পদ কতটি এবং সেই অনুপাতে পিএসসি কতজনকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করাবে, সেটিও ঠিক করা হচ্ছে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে কাট মার্কস কত হবে ও কতজন প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করানো হবে, সেটি নিশ্চিত করা গেলে এখানে মানুষের প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগই থাকবে না। বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত পাওয়া গেলে সামনের ৪৫তম বিসিএস থেকে এই  সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাসে পরিবর্তন

পরীক্ষার হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাসে পরিবর্তন এনেছে পিএসসি। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে  সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় , সব প্রার্থীর নিবন্ধন নম্বর কক্ষ অনুসারে দৈবচয়ন ভিত্তিতে সাজিয়ে হাজিরা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। হাজিরা তালিকায় প্রার্থীর নিবন্ধন নম্বর জোড়-বিজোড় সংখ্যায় ভাগ করে সিট বসানো হবে।

দৈবচয়ন ভিত্তিতে আসনবিন্যাস প্রস্তুত করার কারনে প্রার্থীকে  নিজের সিট ও কক্ষ খুঁজে পেতে  সময় লাগবে। তাই পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে  পিএসসি’র পক্ষ থেকে। ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর বিসিএস পরীক্ষার আসনবিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় কিছু অসাধু পরীক্ষার্থী ত্রুটিপূর্ণ আসনবিন্যাসের সুযোগ নিয়ে থাকে।

পরীক্ষার হলে কথা বললেই প্রার্থিতা বাতিল করবে পিএসসি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) যেসব নিয়োগ পরীক্ষা নেবে সেখানে প্রার্থী কোনো অনৈতিক কাজ করলেই কড়া ব্যবস্থা নেবে পিএসসি। এ ছাড়া ওই প্রার্থীদের পিএসসির আগামী কোনো পরীক্ষাতেও প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেবে পিএসসি। পিএসসি এক বিশেষ সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

পরীক্ষার হলে কথা বললেই প্রার্থিতা বাতিল করবে পিএসসি

২৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা থেকেই গৃহীত সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।পরীক্ষা চলাকালে দেখাদেখি ও এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

  • ,পরীক্ষা চলাকালে কথা বললে বা দেখাদেখি করলে প্রার্থীদের খাতা তাৎক্ষণিক নিয়ে নেওয়া হবে।
  • তাঁকে আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না।
  • প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
  • প্রার্থীর অভিযোগ গুরুতর হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে

পিএসসি  একটি আদর্শ ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে যেখানে পরীক্ষার হলে কোনো প্রার্থী কথা বলবে না বা দেখাদেখি করবে না। এটি করলে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। হয়তো একবারে এটি বন্ধ হবে না তবে চেষ্টা ও উদ্যোগ ব্যাহত থাকবে  পুরোপুরি বন্ধ করার এখন থেকে পিএসসি যত পরীক্ষা নেবে সবগুলোতেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। পিএসসি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে চায়।

সকলের মংগলের জন্য পিএসসি এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।তবে মেধাবীরা সু্যোগ পাক সেই পথকে সুগম করতে বিসিএসেরপরীক্ষাপদ্ধতিতে বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে পিএসসি। মেধাবীদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাক দেশ এবং উপকৃত হোক দেশের প্রতিটি নাগরিক।

পিএসসি এবার BCS exam system পরিবর্তন করবেন।

বিসিএস পরীক্ষায় সুবিধা পাচ্ছেন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা, বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন, বিসিএসের পরীক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে পিএসসি,

Leave a Comment