কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে । কার্যকরী টিপস

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে এ প্রশ্ন আজ সার্বজনীন। বেশিরভাগ চাকুরী প্রত্যাশী  মনে করেন যে টাকার জোড় বা মামুর জোড় না থালে সরকারি চাকরি পাওয়া যায়না। কথাটা সত্য তবে যাদের কোনো যোগ্যতা নেই তাদের জন্য। যাদের যোগ্যতা আছে তাদের সরকারি চাকরি পেতে কোনো টাকার জোড় বা মামুর জোড় লাগেনা। এখন প্রশ্ন হলো যোগ্যতা কি বা যোগ্যতা বলতে কি বুঝায় বা কিভাবে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা যায়?

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে কিংবা সরকারি চাকুরি পাওয়ার জন্য কিভাবে পড়বেন আজকের এই আলোচনায় আমরা তা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।পাশাপাশি কিভাবে নিজেকে সরকারি চাকরি পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলবেন সেই বিষয়েও থাকবে কিছু কার্যকরী পরামর্শ।

সরকারি চাকরি পেতে হলে অবশই আপনা্র যথাযথ যোগ্যতা থাকতে হবে। যোগ্যতা গুলো হলো শারিরিক যোগ্যতা, মানসিক যোগ্যতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা। শারীরিকভাবে সুস্থ্য, মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই কেবল আপনি সরকারি চাকুরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং শারীরিক পরিক্ষার মাধ্যমে যোগ্য মনে হলেই কেবল আপনি সরকারি চাকরি পেতে পারেন।

শুধু সরকারি নয় বেসরকারি চাকরি, ব্যাঙ্কের চাকরি, এনজিও চাকরি, সামরিকবাহিনী চাকরি এবং অন্যান্য চাকরির জন্য নিজেকে যোগ্যরুপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী কিছু টিপস এখানে শেয়ার করা হলো। আপনি যদি চাকরি প্রত্যাশী হন তাহলে সাপ্তাহিক চাকরির খবর পত্রিকা আপনার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। নিয়মিত সাপ্তাহিক চাকরির খবর পত্রিকা অনলাইনে পড়তে ভিজিট করতে পারেন চাকরি আছে ডট কম জব সাইটে।

বিষয় তালিকা বা টেবিল অফ কনটেন্ট

শিক্ষাগত যোগ্যতা কিভাবে বাড়াবেন

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হবে। ভালো ফলাফল করতে হলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়াশুনা করতে হবে। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় গুলো দেখে নিয়ে তা অনুসরণ করতে পারেন। একাডেমিক জীবন শেষ হওয়ার আগেই শুরু করে দিন সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি।

সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য অনার্সে পড়া অবস্থায়ই চাকুরির প্রস্তুতি শুরু করতে হয় । অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে চাকুরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে যা তাকে হতাশায় ডুবিয়ে দেয়। সেশনজট, সময় মত পরীক্ষা না হওয়া ইত্যাদি কারনে শিক্ষাজীবন শেষ হতে চাকুরির বয়স পেরিয়ে যায় তখন বয়স নিয়ে চিন্তা করে অনেকেই পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া সুদীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার কারনে চাকরির পড়াশোনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনিহা দেখা দেয় তাই সময় থাকতে নিজেকে প্রস্তুত করুন সরকারি চাকরির জন্য।

চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার উপায় ৭ টি কার্যকরি টিপস

কিভাবে নিজেকে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করবেন?

সরকারি চাকুরি পাওয়ার জন্য কিভাবে পড়বেন?

সরকারি চাকরির জন্য নিজেকে যোগ্যরুপে গড়ে তুলতে পড়াশুনার কোনো বিকল্প নাই। আপনি যদি চাকরির জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে চাকুরি আপনাকে খুজবে । মূল কথা হলো সরকারি চাকুরীর পরীক্ষায় যে সকল বিষয়ে প্রশ্ন হয় আপনাকে সেই সকল বিষয়ের উপর পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে ।

বর্তমানে সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণ সহজে ধরা দিতে চায়না। সরকারি চাকরির প্রতযোগিতা অনেক বেশি। একটিমাত্র পদের জন্য হাজার হাজার প্রার্থী প্রতিযোগিতা করে থাকে। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে আপনাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে। সাধারণত প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার কোনো সিলেবাস থাকে না, তবে যে Topic গুলো থেকে সাধারণত বেশি প্রশ্ন আসে সেই বিষয় গুলো এখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি

 সরকারি চাকুরিতে সাধারনত বাংলা, ইংরেজী,অংক এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। বাংলা বিষয় থেকে ব্যাকরণ ও  সাহিত্য,ইরেজি বিষয় থেকে গ্রামার ও  অন্যান্য , গণিত বিষয় থেকে বীজ গ্ণিত, পাটি গণিত ও  জ্যামিতি , সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে বাংলাদেশ , আর্ন্তজাতিক, খেলাধুলা ও  ইতিহাস বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এখানে উল্লেখিত বিষয় গুলো ভালো ভাবে আয়ত্ব করলেই আপনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যাবে এবং সরকারি চাকুরির জন্য যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষায় ভালো করতে পারবেন।

বাংলা ব্যাকরণের প্রস্তুতি

সরকারি চাকুরির পরীক্ষায় ৮ম ও নবম শ্রেনীর সিলেবাসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে । তাই বাংলার ক্ষেত্রে ৮ম ও ৯ম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বইটা ভালো করে পড়তে হবে। সমাস, সন্ধি, কারক ও বিভক্তি, এক কথায় প্রকাশ, সমার্থক শব্দ এই গুলো থেকে প্রশ্ন আসবেই কোনো মিস হবেনা। বোর্ডে যে যে প্রশ্ন ব্যাকরণ থেকে এসেছে সেই গুলো পড়তে হবে পুরোপুরি সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ অংশের সমাধান দেওয়া থাকে সেগুলো ও আয়ত্ব করতে হবে।

কিভাবে-পড়লে-সরকারি-চাকরি-পাওয়া-সহজ-হবে

আর ও ভালো প্রস্তুতির জন্য অবশ্যই ধ্বনি তত্ত্ব, শব্দ গঠন ও প্রকরণ, পুরুষ, অনুসর্গ, উপসর্গ, বাক্য প্রকরণ ও রূপান্তর, ক্রিয়ার কাল, পদ, ধাতু, বিরাম চিহ্ন, বাচ্য ও বচন, লিংগ, বাগ্ধারা, এগুলো পড়তে হবে । এই গুলোর বাহিরে বাংলা ব্যাকরণ থেকে খুব একটা প্রশ্ন আসবে না । এই অংশ ভালো ভাবে পড়লে বাংলা থেকে ভালো মার্ক পাওয়া যাবে ।

বাংলা সাহিত্যের জন্য প্রস্তুতি

বাংলা বিষয়ের ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যের জন্য প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬ষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির বাংলা বোর্ড বইয়ের সকল কবি পরিচিতি আর গল্প, কবিতার উৎস, পটভূমি কোন কবিতা কোন ছন্দে রচিত এসব একদম মুখস্ত করতে হবে । তবে মূল গল্পটা ভালো ভাবে মার্কিং করে পড়লে মনে রাখা সহজ হবে। কবিতার ছন্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে । বইয়ে অনেক কবিতা আছে আর সব গুলো কবিতার ছন্দ মনেও রাখা যায় না ।

ছন্দ মনে রাখার জন্য একটা টিপস দিচ্ছি । ব্যাকরণ বইয়ের ভাব সম্প্রসারণ অংশে চলে যান এখানে অনেক গুলো কবিতার চরণ ও ছন্দের ভাব সম্প্রসারণ পাবেন সেগুলো কোন কবিতার আর কোন কবির তা খুজে বের করুন । বার বার পরিক্ষায় আসা ছন্দ গুলো এমনভাবে আয়ত্ব ক্রুন যেন ভুলে না যান । বেশি বেশি কবি পরিচিতি ও লম্বা কবিতা গুলো বার বার পড়ুন যা পরীক্ষার খাতায় উত্তর করা সহজ করে দিবে।

বিখ্যাত অনুবাদ বইয়ের নাম, অনুবাদকের নাম, অনুবাদ গল্প,নাটক এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াশোনা করতে হবে। বাংলা সাহিত্যের নামকরা কয়েকজন কবি ও সাহিত্যিক থেকে প্রশ্ন আসে । বিশেষকরে পিএসসির নির্ধারিত কবি ও সাহিত্যিকদের জীবনী ও তাদের কাজ এবং অবদান এই অংশ থেকে প্রশ্ন আসবেই । তাই এই গুলো ভালো করে পড়তে হবে।নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিকদের নাম অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

পিএসসি নির্ধারিত ১১ জন কবি-সাহিত্যিক

পিএসসি নির্ধারিত ১১ জন কবি-সাহিত্যিকগন হলেন- ১) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ২) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ৩) মাইকেল মধুসূদন দত্ত ৪ )মীর মশাররফ হোসেন ৫ ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৬ ) দীনবন্ধু মিত্র ৭ )কাজী নজরুল ইসলাম ৮ )  জসীম উদ্দীন ৯ ) ফররুক আহমদ ১১ ) কায়কোবাদ এবং ১১ )বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

 আর পঞ্চকবি হলেন ১ ) বুদ্ধদেব বসু ২ ) জীবনানন্দ দাস ৩)  বিষ্ণু দে ৪ ) সুধেন্দ্রনাথ দত্ত ও  ৫ ) অমিয় চক্রবর্তী।

এখানে উল্লেখিত কবি ও সাহিত্যিকদের সম্পর্কে সব শিখে নিতে হবে । সরকারি চাকরির বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় বিশেষ করে বাংলা অংশে বাংলা ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন বেশি আসে । অনেকেই বাংলা ব্যাকরণ কম পড়ে থাকেন এবং না বুঝে মুখস্থ করেন যার ফলে ব্যাকরণ থেকে আসা প্রশ্ন সঠিকভাবে উত্তর দিতে ব্যার্থ হন তাই বাংলা ব্যাকরণ বুঝার চেষ্টা করুন।

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে ইংরেজী বিষয়ের প্রস্তুতি

ইংরেজীতে দূর্বলতা নেই বাংলা মিডিয়ামে পড়া এমন ছাত্র খুজে পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশী প্রত্যেক ছাত্রেরই ইংরেজী ভীতি আছে। তাই ইংরেজীর ভয়কে জয় করতে হবে। খুবই Simple কিছু বিষয় যথাযথ ভাবে পড়লে ইংরেজী ভীতি থাকবেনা আশা করা যায়। বিশেষ করে Noun, Verb, Adjective, Adverb, Preposition, Articles এই টপিক গুলোর সব পড়তে হবে ।

 Change to– simple, Compound & Complex, Voice Change, Mood, infinitive, participle, gerund, Idioms & Phrases, Correct word, Synonym & antonym, vocabulary, Right form of verbs. মূলত এই গুলো পড়লেই প্রায় সব উত্তর দিতে সহজ হবে । নানা ধরনের টেকনিক আছে ইংরেজী গ্রামার মনে রাখার জন্য তাই অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্তাবধানে থেকে টেকনিকগুলো ভালো করে আয়ত্ব করতে হবে। ইংরেজী প্রশ্ন এনালাইসিস করলে দেখা যায় বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরে ফিরে বার বার আসে তাই পূর্বের প্রশ্নের ধারা অনুযায়ী পড়তে হবে।

ইংরেজী সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিখ্যাত কবি সাহিত্যকদের নাম, কবিতা, গল্প গ্রন্থ, নাটক, আদি যুগ, মধ্যযুগ, নোবেল বিজয়ী কবি সাহিত্যিকদের নাম মনে রাখতে হবে। ইংরেজি গ্রামারের সকল নিয়ম খুঁটিনাটি ও ব্যাতিক্রম অংশগুলো জানতে হবে । বিশেষকরে Sentence, Parts of Speech, Tense, Voice, Narration, Gender, synonym, antonym, Particple, বিশেষ ধরনের কিছু Translation ইত্যাদি বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে গণিত বিষয়ের প্রস্তুতি

সরকারি চাকুরীর পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে গণিতে ভালো করতে হবে।একজন শিক্ষার্থী চাইলে গনিতের সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে পুরো মার্কস লুফে নিতে পারেন। এজন্য অবশ্যই গণিতে খুবই মনযোগী ও পাকা হতে হবে ।

পাটি গণিতের প্রস্তুতি

বিগত প্রশ্নগুলোতে দেখা যায় নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায়ের গণিত প্রশ্নপত্রে ঘুরে ফিরে আসে । চতুর্থ থেকে ৯ম শ্রেণির গনিত বই সংগ্রহে রাখবেন এবং নিয়মিত প্রাক্টিস করতে হবে । এটা সকল চাকুরির জন্য জরুরি।গণিতের ক্ষেত্রে দেখা যায় পাটি গণিত থেকে লাভ-ক্ষতি,সুদ-কষা,পিতা-পুত্র,মাতা-কণ্যা,অনুপাত সমানুপাত,ঐকিক নিয়ম, সংখ্যার ধারণা, ল.সা.গু, গ.সা.গু. , ভগ্নাংশ, গড়, সময় ও গতিবেগ, দূরত্ব, ধারা ও মানসিক দক্ষতা থেকে প্রশ্ন আসে ।

বীজ গণিতের প্রস্তুতি

বীজ গণিতের ক্ষেত্রে বীজগাণিতীয় রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, সূত্রের প্রয়োগ ও সূত্রাবলীর প্রমাণ, সরল সমীকরণ, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, মান নির্ণয় থেকে প্রশ্ন আসে। জ্যামিতির ক্ষেত্রে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, রম্বস, সামন্তরিক, বৃত্ত ও জ্যামিতি বিষয়ের খুঁটিনাটি থেকে প্রশ্ন আসে।

উপরে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অধ্যায়ের অংক গুলো নিয়মিত অনুশীলন করলে কমন পাওয়া যাবে । আরো সুবিধা হল বইয়ের অংকগুলো হুবুহু আসে আর খুব কম সময়েই দেখা গেছে সংখ্যা পরিবর্তন করে আসতে । সেইক্ষেত্রে নিয়মগুলো আয়ত্তে থাকলে সমস্যা হবেনা । বোর্ড বইয়ে দেয়া  উদাহরণ এর অংক গুলোও আয়ত্ব করতে হবে । চাকুরীর পরিক্ষার জন্য বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি বাজার থেকে ভালো কিছু ম্যাথ বই কিনে প্রাকটিস করতে পারেন যা আপনার দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। MP3 ম্যাথ রিভিউ, Magic Math, প্রফেসর’স গাণিতিক যুক্তি, শর্টকাট ম্যথা, ওরাকল গাণিতিক যুক্তি এখান থেকে যে কোন দুইটা বই ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারেন।

কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতি

সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের নির্দ্দিষ্ট কোনো সিলেবাস নাই। চলমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারনত সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো বেশি করা হয়। তাই সাধারণ জ্ঞানের জন্য ভালো একটা বই সংগ্রহ করে তা নিয়মিত চর্চা করতে হবে। আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব, জ্ঞান সিন্ধু, মেডি জ্ঞান কোষ এগুলোর যে কোন বই কিনে নিবেন সাথে প্রতি মাসের কারেন্ট ওয়ার্ল্ড ও দেশ বিদেশের সাম্প্রতিক তথ্যগুলো জানা থাকতে হবে।প্রতিদিন নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজী খবরের কাগজ পড়তে হবে।

কিভাবে-পড়লে-সরকারি-চাকরি-পাওয়া-সহজ-হবে

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর প্রস্তুতি

সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও রাজধানীর নাম,  বিখ্যাত প্রণালী, দেশ-বিদেশের বড় ও বিখ্যাত নদী, খাল, বিখ্যাত স্থান, স্থাপনা, বৃহত্তম, ক্ষুদ্রতম, বন্দর, জলপ্রপাত, ঐতিহাসিক স্থান, ইতিহাস জড়িত ঘটনাবলী, আবিষ্কার, পুরুস্কার, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের উল্লেখ যোগ্য কর্ম, অবদান ও তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা সাল থেকেই প্রশ্ন বেশি আসে । তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ব করতে হবে। বিভিন্ন দেশের সমালোচিত প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নাম, বিভিন্ন সময়ে সংঘঠিত যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে।

বাংলাদেশ বিষয়াবলীর প্রস্তুতি

সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলাদেশের সৃষ্টির পূর্বের প্রাচীন শাসনামল অর্থাৎ মোঘল আমল, ইংরেজ শাসন আমল, প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে।

 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন,  ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, স্বাধীনতা ঘোষণা,মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যাবলী,মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল,মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা,পাক বাহিনীর আত্নসমর্পণ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্পর্কে জানতে হবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশে সংগঠিত হওয়া আদমশুমারিতে জনসংখ্যা, নারী পুরুষের সংখ্যা, জন্ম ও মৃত্যুর হার, শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃ মৃত্যুর হার, শিক্ষার হার,খানা, গ্রাম, ইউনিয়ন পরিষদ,উপজেলা, জেলা ও বিভাগের সংখ্যা, মাথা পিছু গড় আয়, জিডিপি জানতে হবে।

আদিবাসীদের কারা বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরা কোন জেলায় কারা বাস করে, জাতিগোষ্ঠির বিশেষ বৈশিষ্ট্য, উৎসব, পিতৃপ্রধান, মাতৃপ্রধান জাতি, ধর্ম,সংস্কৃতি, পোষাক ইত্যাদি জানতে হবে।

আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসমূহ, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার”। বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র বিষয়ে জানতে হবে।

বাংলাদেশের বাজেট, উন্নয়ন, বিভিন্ন জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস,গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড,নদী নালা, ভৌগলিক অবস্থান, খনিজ সম্পদ,বিখ্যাত স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,মুরাল, ভাস্কর্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা,বিভিন্ন জাতীয় বিষয়াবলী,আবিস্কার,উদ্ভাবন,চিত্র কর্ম, স্মরণিয়-বরণীয় ব্যক্তিত্ব, বীর শ্রেষ্ঠ, বীর প্রতীক, বীর উত্তম, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বড়বড় অর্জন ইত্যাদি জানতে হবে।

তথ্য প্রযুক্তি বিষয়াবলীর প্রস্তুতি

তথ্য প্রযুক্তি সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি টপিকের অংশ থেকে বিশেষ করে প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশ্ন আসে । তাই কম্পিউটার শিক্ষা বইটা সংগ্রহ করে  প্রযুক্তি বিষয় তথ্যগুলো পড়তে হবে । কম্পিউটারের ইতিহাস,কম্পিউটারের গঠন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম, সোসাইল সাইট, কেনা বেচার সাইট, সাইবার সিকিউরিটি এবং এদের সাথে যুক্ত ব্যাক্তি, নেটওয়ার্ক, সংখ্যা ধারনা, ডিভাইস, তথ্য প্রযুক্তির সর্বশেষ আবিস্কার ও সংযোজন ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে ।

শেষ কথা

কিভাবে-পড়লে-সরকারি-চাকরি-পাওয়া-সহজ-হবে

একসময় ছিলো যখন মানুষ সরকারি চাকরির থেকে বেসরকারি চাকরি বেশি প্রেফার করতো । কারন তখন সরকারি চাকরির তুলনায় বেসরকারি চাকরিতে বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেশি ছিলো। কিন্তু বর্তমানে বেসরকারির নানা ধরনের জটিলতা এবং প্যারার কারনে মানুষ সরকারি চাকরির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে সরকারি চাকুরিতে প্রতিযোগিতা অনেক অনেক বেড়ে গেছে।

তাই প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল এবং পন্থা অবলম্বন করতে হয়। তাই আলোচ্য আর্টিকেলটিতে কিভাবে পড়লে সরকারি চাকরি পাওয়া সহজ হবে সেই বিষয়ে বিস্তারি তুলে ধরেছি। আপনি যথাযথ অনুসরণ করলে সরকারি চাকরি পাওয়া আপনার জন্য অনেকটা সহজ হবে। পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় আপনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।

তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে একদিনেই আপনার পক্ষে পুরো সিলেবাস কাভার করা সম্ভব হবেনা। এই জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে এবং ধৈর্য ধরে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। সাফল্য একদিনে আসেনা। কঠোর শ্রম, অধ্যাবসায় এবং নিয়মিত প্রাক্টিসই আপনাকে সাফল্যের স্বর্ণ শিখড়ে পৌছে দিতে পারে।

Leave a Comment