পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয়?

পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয়?ঃ পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকা খায়নি এমন শিশু খুজে পাওয়া মুশকিল। এই পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয় তা অনেকে আমরা জানি। আবার অনেকেই মনে করে থাকেন যে বকাঝকা করলেই শিশুরা ভালো করে পড়াশোনা করে তাই মাঝে মাঝে বকাঝকা করাই ভালো। harmful effects of bad language on child for study একটা সামাজিক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে।

শিশুরা দুষ্টুমি করবে এটাই স্বাভাবিক। বাসায় বা পড়ার ফাকে শিশুরা দুষ্টুমি করে থাকে বড়দের চোখ এড়িয়ে। ধরা পড়লেই বকাঝকা জোটে কপালে । অনেক ক্ষেত্রে মারধোরও করে থাকেন বড়রা। পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী ক্ষতি হয় কিংবা বকাঝকায় শিশুদের উপর দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতিকর কি ধরনের প্রভাব পড়ে তা জানার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশ রেলওয়ে গেইটম্যান নিয়োগ ২০২২

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় ৮ টি কার্যকরী টিপস

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায় ৭টি কার্যকরী টিপস

চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার উপায় ৭ টি কার্যকরি টিপস

পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর ক্ষতি সমুহ

পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর ক্ষতি হয় এটা আজ প্রমানিত। সমাজ বলেন বিজ্ঞান বলেন কিংবা চিকিৎসাসাস্ত্র সকলেই আজ এ কথা স্বীকার করে নিয়েছে যে বকাঝকা শিশুর শুধু ক্ষতিই করেনা বরং সমাজ ও পরিবারকে নানাভাবে কলুষিত করছে। পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয়- তার একটা মনসতাত্ত্বিক চিত্র তুলে ধরার একটা প্রয়াস এখানে উপস্থাপন করা হলো।

১। মানসিক বিকাশের ব্যাঘাত ঘটে

প্রতিটি বাবা-মা-ই  চান তার সন্তান লেখাপড়া করে বড় হবে। কেউ চান বড় অফিসার হবে, কেউ চান ডাক্তার হবে , কেউ চান ইঞ্জিনিয়ার হবে। তাই চলে স্বপ্ন পূড়নের নামে দমন পীড়ন আর কঠোর শাসনের মাধ্যমে পড়াশোনা।

বকাঝকা-দিয়ে-হোমওয়ার্ক-নয়

কিন্তু পড়াশোনায় একটু অমনোযোগী হলেই চলে শাসনের নামে অযথা বকাঝকা, রাগারাগি, আঘাত, উচ্চস্বরে ধমকানি বা চেঁচামেচি । শিশু ভয়ে তটস্থ হয়ে চুপসে যায় পড়তে মন না চাইলেও চলে পড়ার রিহার্সেল । বকাঝকা, চীৎকার চেচামেচির বীভৎস দৃশ্য শিশুর মন-মগজে সারাক্ষন খেলা করতে থাকে। যা একটা শিশুর মানসিক বিকাশকে চরম ভাবে বাধাগ্রস্ত এবং ক্ষতি গ্রস্ত করে।

২। বিষন্নতায় ভোগে

পড়াশোনা নিয়ে স্কুলের শিক্ষকগন শিশুদেরকে অনেক চাপে রাখেন। আবার বাসায় পড়াশোনা না করলে অভিভাবকগনও শিশুদেরকে চাপের পাশাপাশি বকঝকা ও শারীরিক নির্যাতনও করে থাকেন। অনেকে নিজের রাগ-বিরক্তি সন্তানের উপর উগরে দিয়ে তারা এক ধরণের তৃপ্তি বোধ করেন।

শিশুরা নিজেদের এই মানসিক চাপের কথা কাউকে বলতে পারেনা এমনকি বলার সাহসও পায়না। অধিকন্ত পড়াশোনার জন্য প্রতিদিন বকুনি দিলে তারা আরো বিষন্ন হয়ে পড়ে। শিশুর আচরণে ক্ষতিকর পরিবর্তন আসে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৩। শিশুরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে

অতিরক্ত বকাঝকা এবং শারিরিক নির্যাতনের কারনে শিশুরা ভয় পায় এবং একধরনের অজানা ভীতি তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখে । তাই যেকোনো কাজ করতে গেলেই শিশুরা ভয়ে সাহস হারিয়ে ফেলে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বেখেয়ালী হয়ে যায়। এতে করে শিশুরা তাদের আত্ম-বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। সে তার পরবর্তী জীবনেও এ সমস্যা থেকে মুক্তি পায় না। প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েও পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে সে কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা বোধ করে।

৪ ।সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে

অযথা বা অতিরিক্ত বকাঝকার ফলে শিশুরা স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। শিশুরা ভয়ে থাকে কোনো কাজের ব্যাপারে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে হয়তো আবার বকাঝকা শুনতে হবে। হয়তোবা শারিরিক নির্যাতনের স্বীকারও হতে পারে সেই কথা ভেবে তারা নিজের পছন্দমত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। এসব বিষয়গুলো পরবর্তী জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং তাদের মধ্যে কোনো লিডারশিপ মনোভাব গড়ে উঠেনা।

৫। একাকীত্বে ভোগে

বর্তমান সময়েও পড়াশোনা নিয়ে শিশুদের মার খাওয়া কমেনি। বাড়ির অভিভাবক, স্কুল টিচার, হোমটিউটর, বড় ভাই-বোন থেকে শুরু করে পাড়ার মুরুব্বি এবং খালা ফুফুরা সবাই ছোট শিশুদের শাসনের নামে বকাঝকা করতে কোনো ছাড় দেননা। তাই শিশুরা তাদের মনের কথা কারো কাছে বলার সাহস পায়না। মনের কথা বলার মত কোনো সংগী খুজে না পাওয়ায় তারা একাকীত্ত্বে ভোগে যা তদের মনে বিষন্নতার জন্ম দেয়।

৬। একরোখা, জেদী বা পিছলা হয়ে যায়

শিশুদের শাসন করতে হবে তা না হলে তারা মানুষ হবেনা – এটাই অভিভাবকদের বদ্ধমূল ধারনা। একটু এদিক ওদিক হলেই কাঠের স্কেলের বাড়ি। দু আঙুলের ফাঁকে পেনসিল ঢুকিয়ে চাপ দেওয়। চুলের মুঠি ধরে পিঠে কিল, চড়, ঘুঁষি, সঙ্গে অহরহ গালিগালাজ। অভিভাবকরা মনে করতেন, এসব না হলে শিশু মানুষ হবে না। শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে এই রকম পরিস্থিত এখনো ঘরে ঘরে বিরাজমান।

স্কেলের-বাড়ি-আর-নয়

বেশি বেশি শাসন, বকাঝকা, গালিগালজ ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে শিশুরা একরোখা হয়ে যায় কোনো কথাই শুনতে চায়না। মার না দিলে পড়াশোনা করেনা এবং মার খাওয়াতে সে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জেদ বেড়ে যায়। গালিগালাজ, বকাঝকা যাই দেননা কেন তারা সব কিছুকে থোরাই কেয়ার করে। হাজারো কথা শুনিয়ে এবং বকাঝকা দিয়েও তাদের থেকে কাংখিত পড়াশোনা আদায় করা যায়না বরং পিছলা হয়ে যায়।

৭। ভদ্রতা, শালীনতা ও লজ্জাহীন হয়ে যায়

এখন ডিজিটাল যুগ। সবার হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। ছোট শিশুরাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্মার্ট। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই সে গোটা বিশ্বকে জানছে, বুঝছে। ফলে বয়সের তুলনায় তারা অনেক বেশি পরিণত। তাই বেদম ঠ্যাঙালেই বাচ্চা মানুষ হবে, এই ধারনাও এখন বদলে গিয়েছে।

রাগের মাথায় শাসন করতে গিয়ে অনেক অভিভাবক শিশুদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন। শিশুরাও আপনার থেকে সেই গালাইগালাজ শিখে এবং বাইরে সেটার প্রয়োগ করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আরমা শিশুদের আচরণ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যাই। ভদ্রতা শালীনতা তাদের ব্যবহারে থাকেনা। মুখরা রমণীর মত লজ্জাহীনভাবে আজে বাজে কথা পরিবেশ পরিস্থিত বিবেচনা না করে হুটহাট বলে ফেলে।

প্রিয়-জিনিস-কেড়ে-নেয়া

    পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর আরও নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে । পরবর্তী জীবনে এর কুফল শিশুর জীবনকে দূর্বিষহ করে তোলে। তাই কড়া শাসন, অসভ্য গালিগালাজ,প্রিয় জিনিস কেড়ে নেয়া থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। পড়াশোনার যে চাপে দিশেহারা শিশুরা সেই চাপ না কমিয়ে বকাঝকা দিয়ে হোমওয়ার্ক নয়। পড়াশোনা নিয়ে বকাঝকায় শিশুর কী কী ক্ষতি হয়- সেই বিষয়টা আজ আর লম্বা করতে চাইনা

আদর দিয়ে সোহাগ দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে মমতাময়ী পরিবেশ তৈরী করে তাদের থেকে পড়া আদায় করতে হবে। তাদের সাথে বন্ধুর মত মিশতে হবে। তাদের সকল চাহিদার কথা মন দিয়ে শুনতে এবং সমস্যার সমাধান করে দিতে হবে। তবেই তারা আমাদের আগামীদিনের উত্তম সম্পদে পরিনত হবে এবং আমারা লাভবান হবো।

Leave a Comment