বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি-একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন

বিসিএস ক্যাডার হওয়া সবার জীবনে একটা স্বপ্ন থাকে।সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি-একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন আমরা খোলামেলা কিছু কথাবার্তা এবং আলোচনা করবো।এই আলোচনা আপনার কোনো উপকারে আসলে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা ।

বিসিএস একটি দীর্ঘ সময় ক্ষেপনকারি প্রক্রিয়া । বিসিএস এর স্বপ্ন লালনকারি যুবক-যুবতীদের অনেকে তাই এই সময়ে অন্যকোন কাজ করে থাকেন। আবার অনেকেই একেবারে সবকিছু বাদ দিয়ে আদাজ্বল খেয়ে লেগে যান শুধুমাত্র বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। তাই আজকের আলোচনায় চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে ফোকাস করা হবে। অন্যদিকে যারা সবকিছু ছেড়ে দিয়ে শুধু বিসিএস এর জন্য চেষ্টারত তাদের নিয়েও কিছু পরামর্শ দেয়া হবে যাতে করে তারা আরও বেটার বা ভালোভাবে বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার উপায় জানতে ভিজিট করতে পারেন চাকরি আছে ডট কম সাইটটি নিয়মিতভাবে

৪৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি | প্রাথমিক পদক্ষেপ

সাপ্তাহিক চাকরির খবর অনলাইনে পড়তে পারবেন এই খান থেকে

বিষয় তালিকা বা টেবিল অফ কনটেন্ট

চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি

চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি ঃ চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি আজ এক চরম বাস্তবতা। চাকরির ক্ষেত্রে বেকার যুবক এবং তরুণ-তরুণীদের বিপুল আগ্রহ বিসিএসে। একটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যায়। এতটা সময় অনেকের পক্ষে শুধু বিসিএস প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। আর্থিক ও পারিবারিক প্রয়োজনে তাই তাঁরা অন্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকেন ।

অনেকে ভাবেন, বিসিএসে টিকতে হলে অন্য সব বাদ দিয়ে কেবল প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ দিতে হয়। এমন ধারনা পুরোপুরি ভুল। বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল খেয়াল করলে দেখবেন, যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করেছেন। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্রসহ আকর্ষণীয় ক্যাডারগুলোতে চাকরিজীবীদের আধিপত্য বেশি দেখা গেছে।

চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি

চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি করনীয় কাজ

সরকারি বা বেসরকারি অন্য চাকরির পাশাপাশি কার্যকরভাবে বিসিএস প্রস্তুতির জন্য প্রথমে আপনাকে পড়াশোনার নির্দিষ্ট একটা সময় বের করতে হবে। প্রতিদিন ওই সময় পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও বাদ দিতে হবে। প্রতিদিন একটা সময় অবশ্যই পড়াশোনায় দিতে হবে।

অনেকে পড়াশোনা না করে শুধু চাকরি নিয়ে হতাশায় ভোগেন, এটা ভুল। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে অবিচল থাকতে হবে। প্রতিদিন নিজেকে সময় দিতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি-পরিপূর্ণ গাইড লাইন এই খানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আলোচনা গুলোতে ছোট ছোট হেডলাইন করা হয়েছে যাতে আপনার পক্ষে প্রতিটি পদক্ষেপ এর গুরুত্ব গভীরভাবে অনুধাবন করা সহজ হয়।

রুটিন মাফিক পড়াশোনা করতে হবে

সকল প্রতিযোগিই পড়ার জন্য রুটিন করে কিন্তু রুটিনকে ফলো করেনা । সময় চলে যায় রূটিন পড়ে থাকে তাই প্রতিদিন নিজেকে একটা রুটিনের মধ্যে ফেলতে হবে। পড়ার রুটিন নিয়ে যুগ যুগ ধরেই আলোচনা ও সমালোচনা আছে। তবে রুটিন করার যে চিরাচরিত পদ্ধতি চলে আসছে, তা ততটা বাস্তবসম্মত নয়।

সাধারণত প্রথম ৪০ মিনিট বাংলা, পরের ৪০ মিনিট ইংরেজি, তারপরের ৪০ মিনিট বিজ্ঞান—এই ধরনের রুটিন খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না। দেখা যায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঠিকমতো শেষ হয় না, ফলে একটা জগাখিচুড়ি প্রস্তুতি হয়। বরং রুটিন হতে হবে বিষয় অনুযায়ী।

ছোটছোট টার্গেট নিয়ে পড়ায় বৈচিত্র্য আনতে হবে

 ছোট ছোট টার্গেট নির্ধারণ করে তা যথা সময়ে শেষ করতে হবে। প্রতিদিন পড়ার একইক্রম অনুসরণ না করে সুবিধা অনুযায়ী বিষয় ধরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়লে পড়ায় বৈচিত্র্য আসে, একঘেয়েমি ও অবসাদ লাগে না। একঘেয়েমি কাটাতে পড়ার ফাকে ফাকে ছোট ছোট বিরতি নিতে পারেন।

ভোরবেলা পড়া শুরু করা

 ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারলে পড়ার অনেকটা সময় পাওয়া যায়। আর এ সময় চারপাশের পরিবেশ খানিকটা নিরব থাকায় পড়ায় খুব সহজেই মনোযোগ আসে এবং ভালো পড়া হয়। তাছাড়া ঘুম থেকে উঠার পর মানুষের মন-মগজ অনেক বেশি কার্যকর থাকে । সকালবেলার শান্ত মনোরম পরিবেশে পড়া দ্রুত শেষ হয় এবং সহজে আয়ত্বে আসে।

 সিলেবাস ধরে পড়াশোনা করা

সিলেবাস বাদ দিয়ে এলোমেলো অগোছালোভাবে পড়াশোনা বিসিএসের ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসেনা। বিসিএস এর সিলেবাস না জেনে পড়াশোনা করা আর অন্ধকারে কালো বেড়াল খুজে বেড়ানো একই কথা। শুরুতেই বিসিএস এর সিলেবাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ আইডিয়া নিয়ে প্রতিটা বিষয়ে টু দা পয়েন্টে পড়াশোনা করতে হবে।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি কোচিং করা

যেহেতু চাকরি করা অবস্থায় পড়ার সময় অনেকটাই কম পাওয়া যায়, এ ক্ষেত্রে পড়তে হবে সিলেবাস ধরে। অনেক চাকরিপ্রার্থী এ জায়গায় শুরুতেই ভুল করে ফেলেন। সিলেবাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা না নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করাতে অনেকেই বুঝতে পারেন না, আসলে তাঁর কতটুকু পড়তে হবে আর কতটুকু ছাড়তে হবে। এ জন্য শুরুতেই পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে বিসিএসের সিলেবাসটা দেখে নিতে হবে।

অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা নিতে হবে

বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি আপনার অজানা বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ ও গাইডলাইন প্রদান করতে পারেন।বেশিরভাগ প্রতিযোগিই নিজের খেয়াল খুশিমত এলোপাতারিভাবে বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন।যার কারনে তাদের সকল চেষ্টা ও আশা-আকাংখা বিফলে যায়। তাই অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা নিয়ে তা যথাযথ অনুসরন করার চেষ্টা করতে হবে।

পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করা

চাকরি করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ছেন, এ ধরনের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিসিএস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা পূর্ণ প্রস্তুতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনার চেয়ে সঠিক ও পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়াশোনাটাই মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

অনেককেই দেখা যায় তাঁরা দিনের বেশির ভাগ সময় পড়ার টেবিলে বসে থাকলেও পড়ায় মনোযোগ দেয় খুবই কম। এই অমনীযোগিতা হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দেয়। পড়াকে সময় দিয়ে না মেপে বরং সময়কে পড়া দিয়ে মাপুন।

পড়াশোনাকে চাপ মনে না করে উপভোগ করা

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় আবেগের কোনো স্থান নেই। পড়াশোনাকে চাপ মনে না করে বরং উপভোগ করতে শিখুন। প্ড়তে বসলেই পড়াটাকে বোঝা মনে হয় এতে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয় এবং পড়ায় মনোযোগ আসেনা । তাই বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও চাপমুক্ত থাকতে হবে। চাপ পড়ার উদ্দ্যমকে নষ্ট করে দেয় তাই চাপকে জানাতে হবে-Goodbye.

অতিরিক্ত প্রত্যাশা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে

 অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় পরীক্ষার্থীর স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করে। বিসিএস পরীক্ষায় আমাকে টিকতেই হবে, না চান্সপেলে আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব কি বলবে – এ ধরনের সীমাহীন প্রত্যাশা থেকে সৃষ্ট চাপের ফলে ভালো ফলাফল আসে না। মনে রাখতে হবে, বিসিএস হলো কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য একটি পরীক্ষা মাত্র। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে যাতে করে মন ফ্রেশ ও ফুরফুরা থাকে।

বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে সময়কে কাজে লাগাতে হবে

সময়কে বিলম্বিত বা দীর্ঘ করার যেহেতু সুযোগ নেই, সেহেতু বিদ্যমান সময়ের মধ্যেই যতটুকু শেখা সম্ভব, ততটুকুই শিখুন। অবান্তর ও অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ না করে বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে সময়কে কাজে লাগালে সফলতা আসবেই। বিসিএস পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হবে এমন কোনো কথা নাই। তাই যেটুকু সময় পাওয়া সেই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে যেন একটা মূহূর্তও বৃথায় নষ্ট না হয়।

শুরুতে দূর্বল বিষয়গুলো মার্ক করে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা

বিসিএস সিলেবাস দেখে কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা আছে আর কোনগুলোতে দক্ষতা নেই, সেগুলো মার্ক করে ফেলা। চিহ্নিত করার পর দূর্বল বিষয়গুলোতে আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেয়া অন্যতম প্রধান কাজ। একজন বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র সাধারণ বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে বেশি দক্ষ হয়ে থাকে তাই এই গুলো হচ্ছে তার প্লাস পয়েন্ট। এগুলোতে একটু কম জোর দিয়ে অন্য সাব্জেক্টগুলোতে একটু বেশি সময় দিবেন যাতে করে দূর্বলতা কেটে ওঠা যায়।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ইন্টারনেট থেকে পড়া

ডিজিটাল যুগ এবং সোস্যাল মিডিয়ার কারনে বেশিরভাগ তরুন-তরুণীরা ফেসবুক ঘাটাঘাটি করে অযথা সময় নষ্ট করে থাকেন। এই সব সোস্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় না করে প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৪-৫ টি পেপারের বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, মতামত, সম্পাদকীয় পড়ে ফেলা জরুরী। এগুলো প্রিলির পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার জন্যও ভালো কাজে দিবে।

বাংলা পত্রিকার পাশাপাশি ইংরেজী পত্রিকা ও পড়তে হবে। লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করে লিখতে হবে ইংরেজী বিষয়ের উত্তরগুলো। পত্রিকায় লিখার ধরণ খুব ভালো থাকে এবং সহজ সরল সাধারণ শব্দ চয়ন করার ফলে লেখাগুলো সাবলীল হয়। তাই পত্রিকা পড়লে লিখার স্টাইল, শব্দের অর্থ জানা এবং জানা শব্দগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে একটা ধারনা গড়ে ওঠে।

সিলেবাস এর পর প্রশ্ন এনালাইসিস করে দেখা বিসিএস এর প্রশ্ন কোথা থেকে আসে?

বিসিএস এর প্রশ্ন কোথা থেকে হয়- এটা জানা খুবই জরুরী। অনেকেই বিসিএস এর প্রস্তুতির জন্য শধুমাত্র গাইড বই এবং লেকচারশিট ফলো করে থাকেন। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রশ্নকর্তারা কোন সময়ই গাইড বই বা লেকচার শীট থেকে প্রশ্ন করেন না। তারা মৌলিক বই থেকেই প্রশ্ন করেন।

বিসিএস এ যত প্রশ্ন আসে তার শতকরা ৮০ ভাগই বিভিন্ন মৌলিক বই থেকে প্রশ্ন তুলে দেয়া হয়। তাই শুধুমাত্র গাইড বই না পড়ে, পড়ার টেবিলে longman, Oxford এই বইগুলো রাখুন। যেকোন প্রশ্নের উত্তরের জন্য এগুলোর ভেতরে খুজুন। ১০০ এর মধ্যে ৯০ টি হুবহু পেয়ে যাবেন!

প্রয়োজনীয় বিষয়ে ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করতে হবে

অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে নেট ঘাটাঘাটি করে সময় নষ্ট করা আমদের সবচেয়ে বড় বাজে অভ্যাস । ভুগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি টপিক ইন্টারনেটে পাবেন। তাই উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া এগুলো ঘাটাঘাটি করে দরকারি তথ্যগুলো লিখে ফেলা জরুরী। তবে আপনি যদি গণিত এর জন্য ইন্টারনেট ঘাটেন তাহলে সেই সময়টুকু বিফলে যাবে এবং মূল্যবান সময়ের অপচয় হবে মাত্র, কাজের কাজ কিছুই হবেনা।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলো ভুল হবেই

সব প্রশ্নের উত্তর আপনি পারবেন এর কোনো গ্যারন্টি নেই কিছু প্রশ্ন ভূল হবেই। ইংলিশে আপনার মাস্টার্স করা থাকলেও দেখবেন ইংরেজি সাহিত্যের কয়েকটা প্রশ্ন আপনি পারবেন না। তাই এইরকম বাংলা সাহিত্য থেকে সবগুলো পারতেই হবে এমন কথা নেই। এগুলো কেউই পারে না কারো পক্ষে সম্ভবও নয়।

তাই এই বিষয়গুলোতে খুব বেশি সময় দিবেন না। যে বিষয়গুলো বারবার পড়ার পরেও ভুল হয় বা মনে থাকেনা সেগুলো ডিরেক্ট বাদ দিয়ে দিন। দুইশত নম্বরের মধ্যে ২০০ পেতে হবে না। পাশ মার্ক আসলেই হল। কারন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর মূল বিসিএস পরীক্ষার সাথে যোগ হয়না।

 বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি কোন কোন বিষয়ে বোর্ড বই পড়বেন?

পাড়ার বড় ভাই মেসের বন্ধু সবাই বিসিএস এর জন্য উপদেশ দিতে সিদ্ধহস্ত। তাদের কথা হলো ষষ্ঠ থকে দশম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজী ও অঙ্ক বোর্ড বই সব পড়ে ফেলতে হবে। তাদের পাল্লায় পরে অনেকেই এই কাজ করে থাকেন এবং অদরকারি সব বস্তাপচা জিনিস পড়ে সময় নষ্ট করেন।

আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনি বিসিএস ক্যান্ডিডেট। আপনি পড়ছেন শুধু প্রিলিমিনারি পাশ করতে। আপনি কোন পিএইচডি করছেন না যে আপনাকে ধরে ধরে সব পড়তে হবে।গণিতের জন্য যে কোন প্রকাশনীর একটি বই কিনে টপিক ধরে ধরে প্রাক্টিস করতে থাকুন কারন গণিত শুধু চোখের দেখায় হয় না।

তবে অবশ্যই সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলা, কম্পিউটার, বাংলাদেশ বিষয়াবলি এই বিষয়গুলো আপনি বোর্ড বই ধরে ধরে পড়ে শেষ করবেন। এই বিষয় গুলোতে বোর্ড বই থেকে প্রশ্ন আসে এই ক্ষেত্রে বোর্ড বইকেই প্রামাণ্য বা মৌলিক বলে ধরা হয়।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি নিজে নিজেই নোটস, শর্টকাট নিয়ম বানান

অনেকেই বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করে থাকে যা বুঝতে বুঝতেই সময় চলে যায়। তাই অন্যের নোট ও শর্টকাট টেকনিক মুখস্ত না করে নিজেই নোট তৈরী করুন । গণিতের একই অঙ্কের জন্য বিভিন্ন শর্টকাট থাকতে পারে তবে আপনার সুবিধামত যেটা সহজ এবং ভালো বুঝেন সেটাই ফলো করুন। আপনার নিয়মে অংক মিললেই হলো।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি নিয়মিত পড়াশুনার পাশাপাশি অনুশীলন করা

একটি প্রচলিত প্রবাদ হলো “Practice Makes a Man Perfect”. অর্থাৎ অনুশীলন যুদ্ধ জয়ের পূর্বশর্ত। তাই নিয়মিত পড়ার সাথে সাথে অনুশীলন করতে এবং লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আজকাল অনুশীলন আপনার স্মার্ট মোবাইলেই করতে পারবেন।

গুগল প্লে-স্টোর থেকে Hello BCS app নামিয়ে নিন আপনার হাতে থাকা Android ফোনে। এই App থেকে প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি টপিকে টাকা ছাড়াই এক্সাম দিতে পারবেন। এই App এ থাকা এক লাখেরও প্রশ্ন অনুশীলন করে আপনি খুব সহজেই বিসিএস প্রস্তুতি নিতে পারবেন।গতানুগতিক বাজারের মডেল টেস্ট বইগুলোর তুলনায় অনলাইন এপে ভুল অনেক কম থাকে। ফেসবুকে অযথা সময় না কাটিয়ে Hello BCS app ইউজ করে পরীক্ষা দিতে পারেন।

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১০০% মার্ক পাওয়ার কোন পরীক্ষা নয়

একজন বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনার মাথায় জায়গা অনেক কম। তাই খুব বেশি আজেবাজে তথ্য দিয়ে মাথা টা খারাপ না করে দরকারি তথ্য গুলো মাথায় রাখবেন। পড়ার ক্ষেত্রেও বেছে বেছে পড়তে হবে। তাই ২০০ তে ২০০ পেতেই হবে এই মানসিকতা   বা চিন্তাধারা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

বিসিএস প্রস্তুতির শুরু থেকেই সিরিয়াস কিছু বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ বানিয়ে নিন। প্রস্তুতি ও অনুশীলন গুলো শেয়ার করার মাধ্যমে ঝালাই করে নিতে পারেন আপনার প্রস্তুতি। তবে যদি মনে হয় অন্যদের থেকে আপনি পিছিয়ে আছেন, হতাশ হয়ে পড়ছেন তাহলে সোজা তাদের থেকে সরে আসাটাই উত্তম।খেয়াল রাখতে হবে আপনি যেন পড়াশুনা থেকে ছিটকে না পড়েন, সব সময় পড়াশোনার টাচে থাকতে হবে।।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি মডেল টেস্ট বা এক্সাম দেয়া

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি মডেল টেস্ট বা এক্সাম দেয়া

বিসিএস এর প্রস্তুতি ঝালাই করার জন্য মডেল টেস্ট দিতে পারেন। অনেক নামকরা বিসিএস কোচিং সেন্টারগুলো এই মডেল টেস্ট নিয়ে থাকেন। তবে বাজার থেকে বই কিনে মডেল টেস্ট দেয়ার চাইতে কোন বিসিএস কোচিং সেন্টার এর মাধ্যমে মডেল টেস্ট দেয়া বেশি কার্যকরী হয়। মডেল টেস্টে যে প্রশ্নগুলো পারবেননা সেগুলো সল্ভ করে নিয়ে আপনার বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য প্রস্তুতি আরো জোরে শোরে শুরু করতেপারেন।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি সহায়ক কোচিং করা

কোচিং করা বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দেশে নামকরা অনেক বিসিএস কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এই সব বিসিএস কোচিং সেন্টার গুলোতে অভিজ্ঞ এবং নামকরা টিচার টিচং দিয়ে থাকেন। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে তারা বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য প্রোপার গাইডলাইন দিয়ে থাকেন। বিসিএস এর আদলে মডেল টেস্ট নিয়ে থাকেন যার কারনে একজন শিক্ষার্থী বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য পুরোপুরি নিজেক তৈরী করতে সক্ষম হন।

বাংলা,ইংরেজী,অংক,বিজ্ঞান,মানসিক দক্ষতা,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা,আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সহ সকল বিষয়ের উপর গুরুত্বপুর্ণ টপিক নিয়ে পুংখানুপুংখ আলোচনা করে শর্টকাট টেকিনিক ও নোটস সরবরাহ করে থাকে এই বিসিএস কোচিং সেন্টারগুলো। বিগত বিসিএস এর প্রশ্নের আলোকে তারা শিক্ষার্থীদের যথাযথ গাইড করে থাকেন। তাই সম্ভব হলে বিসিএস এর জন্য কোন একটি নামকরা কোচিং এর সাথে নিজেকে যুক্ত করে নিতে পারলে তা আপনার বিসিএস প্রিমিমিনারি প্রস্তুতিকে বেগবান এবং স্বার্থক করে তুলবে।

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি শেষ কথা

নানা ধরনের প্রতিকুলতা আর সমস্যা নিয়ে আমদের বাস্তব জীবন। মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যেসময় কোন কিছু ভাল লাগে না। পড়তে ইচ্ছা করে না। এগুলো খুবই স্বাভাবিক নিয়ম। আপনার ক্ষেত্রে ও আসতে পারে। মনে রাখবেন ইচ্ছা আপনার গোলাম, আপনি ইচ্ছার গোলাম না। সৃষ্টিকর্তার উপরে ভরসা রাখবেন। ভালো না লাগলে কিছুদিন পড়া থেকে বিরতি নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন নিজেকে চাপমুক্ত করার জন্য। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, Take a Chill Pill.

বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির জন্য জীবন থেকে একটা বছর ব্যয় করুন।দেখবেন আপনার পরিশ্রম, আপনার ভাগ্য আপনাকে বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে দিবে।বিসিএস ক্যাডার হতে পারলে আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা। আপনার স্বপ্নগুলো বাস্তব হয়ে ধরা দিবে আপনার কাছে।

বিসিএস প্রিলিতে পাস করা যেমন খুব কঠিন নয় তেমনি একদম সহজও নয়। বিসিএস প্রস্তুতি যদি পরিকল্পিতভাবে ঠিকঠাক করা যায়, তাহলে হাজার হাজার প্রার্থীর মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেকে এগিয়ে রাখা দুরুহ কোনো বিষয় নয়। কেউ আপনাকে সুযোগ করে দিবেনা, পরিশ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে আপনাকেই সুযোগ ও জায়গা করে নিতে হবে।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রোপার গাইড লাইন এবং Full Dedication দিয়ে বিসিএস প্রিলিমিনারির জন্য প্রস্তুতি নিলে অবশ্যই আপনি সফলকাম হবেন আশা করা যায়। আলোচ্য বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি-একটি পরিপূর্ণ গাইড লাইন অনুসরণ করে কেউ একজন সফল হলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

Leave a Comment